Dhaka ১২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আলবার্টা, কানাডার এক সুন্দর ও প্রাকৃতিক দৃশ্য।

  • Md musleuddin
  • Update Time : ০৬:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০৩ Time View

আলবার্টার নীরব হ্রদের ধারে

আলবার্টার গভীর প্রান্তরে, রকি পর্বতমালার কোলে লুকিয়ে আছে একটি শান্ত হ্রদ— এমেরাল্ড লেক। সকালবেলা হ্রদের পানিতে পর্বতের ছায়া এমনভাবে পড়ে, যেন স্বচ্ছ কাচের ওপর তুলির আঁচড়ে কেউ নীল-সবুজ রঙের ছবি এঁকে রেখেছে। গাছের ফাঁক দিয়ে আসা হাওয়া হ্রদের ওপর ছড়িয়ে দেয় তরঙ্গের হালকা সুর।

এই হ্রদের ধারে প্রতিদিন সকালে আসে এক কিশোরী— লিলা। সে দূরের ছোট্ট শহর ব্যান্ফে থাকে। লিলার প্রিয় অভ্যাস হলো স্কুলে যাওয়ার আগে কিছু সময় হ্রদের পাশে বসে থাকা। মনে হয়, হ্রদের নীল পানির ভেতর লুকিয়ে আছে অনেক গল্প, অনেক পুরোনো রহস্য।

একদিন লিলা হ্রদের কাছে এসে দেখল, পানির কাছাকাছি একটি আহত হরিণ শুয়ে আছে। তার পায়ে কাঁটা বিঁধে গেছে। লিলা ভয় পেলেও ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। নরম স্বরে বলল,
— “ভয় পেও না, আমি সাহায্য করব।”

হরিণটি চোখ তুলে তাকাল, যেন বুঝতে পারল লিলা তাকে আঘাত করবে না। লিলা তার হাতের স্কার্ফ ছিঁড়ে পায়ের ক্ষতটা বেঁধে দিল। কিছুক্ষণ পর হরিণটি দাঁড়াতে পারল এবং ধীরে ধীরে বনের দিকে চলে গেল— যাওয়ার আগে একবার ফিরে তাকাল। লিলার মনে হলো সেই দৃষ্টিতে ছিল কৃতজ্ঞতার মৃদু ভাষা।

সেই দিনের পর থেকে লিলা প্রতিদিন হ্রদের ধারে গেলে, দূরে কোথাও সেই হরিণটিকে দেখতে পেত। কখনও পাহাড়ের ঢালে, কখনো ঝর্ণার পাশে— যেন সে লিলাকে পাহারা দিচ্ছে।

এক শীতের সকালে হ্রদের ওপরে বরফ জমে গেছে। সূর্যের আলো বরফের ওপর পড়ে সোনালি ঝিলিক ছড়াচ্ছে। লিলা দাঁড়িয়ে ভাবছিল, প্রকৃতি কতটা নীরব অথচ কতটা জীবন্ত! ঠিক তখনই পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখল— সেই হরিণটি বরফের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটছে। আবারও যেন তার চোখে সেই পরিচিত কৃতজ্ঞতার আলো।

আলবার্টার শান্ত, শীতল প্রকৃতি— বরফে মোড়া পাহাড়, ঝকঝকে হ্রদ, আর বনজ প্রাণীদের নিঃশব্দ জীবন— লিলার মনে গেঁথে দিল একটাই শিক্ষা:
প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব মানে হলো তার প্রতি যত্ন, সম্মান, আর নীরব ভালোবাসা।

About Author Information

mdmusle uddin

জনপ্রিয়
rt5dyrtyrtyt

আলবার্টা, কানাডার এক সুন্দর ও প্রাকৃতিক দৃশ্য।

Update Time : ০৬:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

আলবার্টার নীরব হ্রদের ধারে

আলবার্টার গভীর প্রান্তরে, রকি পর্বতমালার কোলে লুকিয়ে আছে একটি শান্ত হ্রদ— এমেরাল্ড লেক। সকালবেলা হ্রদের পানিতে পর্বতের ছায়া এমনভাবে পড়ে, যেন স্বচ্ছ কাচের ওপর তুলির আঁচড়ে কেউ নীল-সবুজ রঙের ছবি এঁকে রেখেছে। গাছের ফাঁক দিয়ে আসা হাওয়া হ্রদের ওপর ছড়িয়ে দেয় তরঙ্গের হালকা সুর।

এই হ্রদের ধারে প্রতিদিন সকালে আসে এক কিশোরী— লিলা। সে দূরের ছোট্ট শহর ব্যান্ফে থাকে। লিলার প্রিয় অভ্যাস হলো স্কুলে যাওয়ার আগে কিছু সময় হ্রদের পাশে বসে থাকা। মনে হয়, হ্রদের নীল পানির ভেতর লুকিয়ে আছে অনেক গল্প, অনেক পুরোনো রহস্য।

একদিন লিলা হ্রদের কাছে এসে দেখল, পানির কাছাকাছি একটি আহত হরিণ শুয়ে আছে। তার পায়ে কাঁটা বিঁধে গেছে। লিলা ভয় পেলেও ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। নরম স্বরে বলল,
— “ভয় পেও না, আমি সাহায্য করব।”

হরিণটি চোখ তুলে তাকাল, যেন বুঝতে পারল লিলা তাকে আঘাত করবে না। লিলা তার হাতের স্কার্ফ ছিঁড়ে পায়ের ক্ষতটা বেঁধে দিল। কিছুক্ষণ পর হরিণটি দাঁড়াতে পারল এবং ধীরে ধীরে বনের দিকে চলে গেল— যাওয়ার আগে একবার ফিরে তাকাল। লিলার মনে হলো সেই দৃষ্টিতে ছিল কৃতজ্ঞতার মৃদু ভাষা।

সেই দিনের পর থেকে লিলা প্রতিদিন হ্রদের ধারে গেলে, দূরে কোথাও সেই হরিণটিকে দেখতে পেত। কখনও পাহাড়ের ঢালে, কখনো ঝর্ণার পাশে— যেন সে লিলাকে পাহারা দিচ্ছে।

এক শীতের সকালে হ্রদের ওপরে বরফ জমে গেছে। সূর্যের আলো বরফের ওপর পড়ে সোনালি ঝিলিক ছড়াচ্ছে। লিলা দাঁড়িয়ে ভাবছিল, প্রকৃতি কতটা নীরব অথচ কতটা জীবন্ত! ঠিক তখনই পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখল— সেই হরিণটি বরফের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটছে। আবারও যেন তার চোখে সেই পরিচিত কৃতজ্ঞতার আলো।

আলবার্টার শান্ত, শীতল প্রকৃতি— বরফে মোড়া পাহাড়, ঝকঝকে হ্রদ, আর বনজ প্রাণীদের নিঃশব্দ জীবন— লিলার মনে গেঁথে দিল একটাই শিক্ষা:
প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব মানে হলো তার প্রতি যত্ন, সম্মান, আর নীরব ভালোবাসা।