Dhaka ১২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি লেখক ওয়ালিদ দাক্কার মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪
  • ২০৫ Time View

১৯৮৬ সাল থেকে ৩৮ বছর ধরে ইসরায়েলি কারাগারে আটক ছিলেন তিনি
ক্স ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা সবচেয়ে বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি বন্দীদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি
এফএনএস: ইসরায়েলে কারাগারে বন্দী অবস্থায় ফিলিস্তিনি লেখক ও অধিকারকর্মী ওয়ালিদ দাক্কার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। ইসরায়েলের শামির মেডিকেল সেন্টারে তাঁর মৃত্যু হয়। দাক্কার মৃত্যুর খবর জানিয়েছে প্যালেস্টিনিয়ান কমিশন অব ডিটেইনিস অ্যান্ড এক্স-ডিটেইনিস অ্যাফেয়ার্স। খবর আল জাজিরা। ইসরায়েলে ফিলিস্তিন–অধ্যুষিত বাকা আল গারবিয়ে শহরে দাক্কার বাড়ি। ৩৮ বছর ধরে ইসরায়েলি কারাগারে আটক রয়েছেন তিনি। ১৯৮৬ সালে একজন ইসরায়েলি সৈন্যকে হত্যার দায়ে দাক্কাকে গ্রেপ্তার করেছিল ইসরায়েল এবং তখন থেকেই তিনি ইসরায়েলি কারাগারে রয়েছেন। প্যালেস্টিনিয়ান কমিশনের অভিযোগ, ‘ধীরে ধীরে হত্যা’ করার নীতি প্রয়োগ করার কারণে দাক্কা মারা গেছেন। ইসরায়েলে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের বিরুদ্ধে ‘ধীরে ধীরে হত্যা’ করার নীতি প্রয়োগ করে থাকে। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে দাক্কাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় দাক্কার মৃত্যু কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উগ্র ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন গভির দাক্কাকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে বলেন, ‘দাক্কার মৃত্যুতে ইসরায়েলের কোনো আক্ষেপ নেই।‘ দাক্কা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা সবচেয়ে বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি বন্দীদের মধ্যে একজন। জেলে থাকাকালীন তিনি একটি শিশুকথাসহ বেশ কিছু বই লিখেছেন। কারাবন্দী অবস্থাতেই ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন দাক্কা। ২০২০ সালে তাঁর স্ত্রী সানা সালামেহ এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কারাগার থেকে গোপনে দাক্কার শুক্রাণু স্থানান্তরের পর গর্ভধারণ করেন সানা সালামেহ। তাঁদের সন্তানের নাম মিলাদ। পরবর্তীতে ২০২১ সালে দাক্কার বিরল ধরনের হাড়ের মজ্জার ক্যানসার মাইলোফাইব্রোসিস ধরা পড়ে। এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করার জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলকে চাপ দিতে শুরু করে। গত বছর ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের পক্ষে সোচ্চার থাকা মানবাধিকার সংগঠন আদামির বলেছিল, দাক্কাকে চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী যে ধরনের চিকিৎসা দেওয়া দরকার, তা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে না। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতই দাক্কার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে দেরি করত দাক্কাকে অবিলম্বে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। তবে তাঁকে কারাগার থেকে আগাম মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানায় ইসরায়েল। ২০২৫ সালে তাঁর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুসারে, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারে কমপক্ষে ১০ ফিলিস্তিনি মারা গেছে। কিন্তু হারেৎজ তদন্তে বলা হয়েছে এই সংখ্যাটি কমপক্ষে ২৭ ছিল। এদিকে ফিলিস্তিনি লেখক দাক্কার মৃত্যুতে রামাল্লায় একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেক ফিলিস্তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

rt5dyrtyrtyt

ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি লেখক ওয়ালিদ দাক্কার মৃত্যু

Update Time : ০১:৪০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪

১৯৮৬ সাল থেকে ৩৮ বছর ধরে ইসরায়েলি কারাগারে আটক ছিলেন তিনি
ক্স ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা সবচেয়ে বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি বন্দীদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি
এফএনএস: ইসরায়েলে কারাগারে বন্দী অবস্থায় ফিলিস্তিনি লেখক ও অধিকারকর্মী ওয়ালিদ দাক্কার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। ইসরায়েলের শামির মেডিকেল সেন্টারে তাঁর মৃত্যু হয়। দাক্কার মৃত্যুর খবর জানিয়েছে প্যালেস্টিনিয়ান কমিশন অব ডিটেইনিস অ্যান্ড এক্স-ডিটেইনিস অ্যাফেয়ার্স। খবর আল জাজিরা। ইসরায়েলে ফিলিস্তিন–অধ্যুষিত বাকা আল গারবিয়ে শহরে দাক্কার বাড়ি। ৩৮ বছর ধরে ইসরায়েলি কারাগারে আটক রয়েছেন তিনি। ১৯৮৬ সালে একজন ইসরায়েলি সৈন্যকে হত্যার দায়ে দাক্কাকে গ্রেপ্তার করেছিল ইসরায়েল এবং তখন থেকেই তিনি ইসরায়েলি কারাগারে রয়েছেন। প্যালেস্টিনিয়ান কমিশনের অভিযোগ, ‘ধীরে ধীরে হত্যা’ করার নীতি প্রয়োগ করার কারণে দাক্কা মারা গেছেন। ইসরায়েলে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের বিরুদ্ধে ‘ধীরে ধীরে হত্যা’ করার নীতি প্রয়োগ করে থাকে। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে দাক্কাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় দাক্কার মৃত্যু কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উগ্র ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন গভির দাক্কাকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে বলেন, ‘দাক্কার মৃত্যুতে ইসরায়েলের কোনো আক্ষেপ নেই।‘ দাক্কা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা সবচেয়ে বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি বন্দীদের মধ্যে একজন। জেলে থাকাকালীন তিনি একটি শিশুকথাসহ বেশ কিছু বই লিখেছেন। কারাবন্দী অবস্থাতেই ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন দাক্কা। ২০২০ সালে তাঁর স্ত্রী সানা সালামেহ এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কারাগার থেকে গোপনে দাক্কার শুক্রাণু স্থানান্তরের পর গর্ভধারণ করেন সানা সালামেহ। তাঁদের সন্তানের নাম মিলাদ। পরবর্তীতে ২০২১ সালে দাক্কার বিরল ধরনের হাড়ের মজ্জার ক্যানসার মাইলোফাইব্রোসিস ধরা পড়ে। এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করার জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলকে চাপ দিতে শুরু করে। গত বছর ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের পক্ষে সোচ্চার থাকা মানবাধিকার সংগঠন আদামির বলেছিল, দাক্কাকে চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী যে ধরনের চিকিৎসা দেওয়া দরকার, তা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে না। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতই দাক্কার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে দেরি করত দাক্কাকে অবিলম্বে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। তবে তাঁকে কারাগার থেকে আগাম মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানায় ইসরায়েল। ২০২৫ সালে তাঁর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুসারে, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারে কমপক্ষে ১০ ফিলিস্তিনি মারা গেছে। কিন্তু হারেৎজ তদন্তে বলা হয়েছে এই সংখ্যাটি কমপক্ষে ২৭ ছিল। এদিকে ফিলিস্তিনি লেখক দাক্কার মৃত্যুতে রামাল্লায় একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেক ফিলিস্তিনি।