Dhaka ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাজরায় নিজস্ব জমিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নির্মাণ ও তহশীলদারের অপসারণ দা’বিতে মানববন্ধন

আশাশুনির খাজরায় নিজস্ব জমিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ ও দুর্নীতিবাজ তফশীলদার আব্দুল হাইয়ের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে খাজরা ইউনিয়নের ৯টির মধ্যে ৬টি মৌজার সহস্রাধিক মানুষ এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে। খাজরা বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক কার্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ডা. আব্দুল মান্নান মোড়ল, ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, সাবেক সেনা সদস্য হাবিবুর রহমান, জামায়াত নেতা বাবলু সানা, ডা. নজরুল ইসলাম, প্রদীপ চক্রবর্তী, আমিরুল ইসলাম সরদার, আছাফুর রহমান, আব্দুর রশীদ মোড়ল প্রমুখ।

মফিজুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, ইউনিয়নের মোট ৯টি মৌজার মধ্যে ৬টি মৌজা খাজরা বাজার সংলগ্ন হওয়ায় জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর থেকেই ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি খাজরা বাজারে পরিচালিত হয়ে আসছে।

১৯৯৩ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত মোবারক আলী মোড়ল সরকারি প্রয়োজন বিবেচনায় ১৫ (পনের) শতক জমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে খাজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নামে কোবলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করেন (দলিল নং ৪৬৬১)। এই জমি সহ মোট ৪৫ শতক সরকারি মালিকানাধীন জমিতে ভূমি অফিসের পুরানো পরিত্যক্ত ভবন এখনো বিদ্যমান এবং বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের পাশেই অবস্থিত।

খাজরা বাজারের প্রাণকেন্দ্রের ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনকে কেন্দ্র করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গণমিলনায়তন, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ, ধর্মীয় উপাসনালয়, জেলা পরিষদের বৃহদাকার পুকুরসহ একাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কিন্তু বর্তমান দুর্নীতিবাজ তফসিলদার মো. আব্দুল হাই অনৈতিকভাবে একেবারে পশ্চিম প্রান্তে খোলপেটুয়া নদীর ধারে অবস্থিত গদাইপুর গ্রামের একটি পাড়ার মধ্যে ভূমি অফিস স্থানান্তরের নানা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অজুহাত দেখিয়ে ভূমি অফিস স্থানান্তরের সুপারিশ করেছেন। ভূমি অফিস স্থানান্তর হলে ৬টি মৌজার হাজার হাজার মানুষকে প্রায় ১০ মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে, যাতে জনদুর্ভোগ বাড়াবে। দুর্নীতিবাজ তহশীলদার এখানে আসার পর থেকেই খাজনার চেক কাটতে ২ হাজার, নামপত্তণ করতে ৭ হাজার, ডিসিআর নিতে ২০-৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে চলেছেন। ঘুষ গ্রহণ করতে তিনি শোভনালী ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রাম থেকে নিজ আত্মীয়কে অফিসে বসিয়ে ঘুষ বাণিজ্য করে যাচ্ছেন।

 

উক্ত দুর্নীতিবাজ কর্তৃক প্রেরিত জনস্বার্থবিরোধী প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আমরা গণস্বাক্ষরিত আবেদন জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করেছি। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় আমরা জনস্বার্থে বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে রীট পিটিশন দায়ের করতে বাধ্য হয়েছি, যা বিচারাধীন রয়েছে।

 

খাজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্থানান্তর না করতে এবং ষড়যন্ত্রকারী দুর্নীতিবাজ তহশীলদারের অপসারণের দাবি জানিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।

About Author Information

rt5dyrtyrtyt

খাজরায় নিজস্ব জমিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নির্মাণ ও তহশীলদারের অপসারণ দা’বিতে মানববন্ধন

Update Time : ১১:২৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

আশাশুনির খাজরায় নিজস্ব জমিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ ও দুর্নীতিবাজ তফশীলদার আব্দুল হাইয়ের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে খাজরা ইউনিয়নের ৯টির মধ্যে ৬টি মৌজার সহস্রাধিক মানুষ এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে। খাজরা বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক কার্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ডা. আব্দুল মান্নান মোড়ল, ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, সাবেক সেনা সদস্য হাবিবুর রহমান, জামায়াত নেতা বাবলু সানা, ডা. নজরুল ইসলাম, প্রদীপ চক্রবর্তী, আমিরুল ইসলাম সরদার, আছাফুর রহমান, আব্দুর রশীদ মোড়ল প্রমুখ।

মফিজুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, ইউনিয়নের মোট ৯টি মৌজার মধ্যে ৬টি মৌজা খাজরা বাজার সংলগ্ন হওয়ায় জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর থেকেই ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি খাজরা বাজারে পরিচালিত হয়ে আসছে।

১৯৯৩ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত মোবারক আলী মোড়ল সরকারি প্রয়োজন বিবেচনায় ১৫ (পনের) শতক জমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে খাজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নামে কোবলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করেন (দলিল নং ৪৬৬১)। এই জমি সহ মোট ৪৫ শতক সরকারি মালিকানাধীন জমিতে ভূমি অফিসের পুরানো পরিত্যক্ত ভবন এখনো বিদ্যমান এবং বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের পাশেই অবস্থিত।

খাজরা বাজারের প্রাণকেন্দ্রের ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনকে কেন্দ্র করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গণমিলনায়তন, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ, ধর্মীয় উপাসনালয়, জেলা পরিষদের বৃহদাকার পুকুরসহ একাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কিন্তু বর্তমান দুর্নীতিবাজ তফসিলদার মো. আব্দুল হাই অনৈতিকভাবে একেবারে পশ্চিম প্রান্তে খোলপেটুয়া নদীর ধারে অবস্থিত গদাইপুর গ্রামের একটি পাড়ার মধ্যে ভূমি অফিস স্থানান্তরের নানা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অজুহাত দেখিয়ে ভূমি অফিস স্থানান্তরের সুপারিশ করেছেন। ভূমি অফিস স্থানান্তর হলে ৬টি মৌজার হাজার হাজার মানুষকে প্রায় ১০ মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে, যাতে জনদুর্ভোগ বাড়াবে। দুর্নীতিবাজ তহশীলদার এখানে আসার পর থেকেই খাজনার চেক কাটতে ২ হাজার, নামপত্তণ করতে ৭ হাজার, ডিসিআর নিতে ২০-৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে চলেছেন। ঘুষ গ্রহণ করতে তিনি শোভনালী ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রাম থেকে নিজ আত্মীয়কে অফিসে বসিয়ে ঘুষ বাণিজ্য করে যাচ্ছেন।

 

উক্ত দুর্নীতিবাজ কর্তৃক প্রেরিত জনস্বার্থবিরোধী প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আমরা গণস্বাক্ষরিত আবেদন জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করেছি। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় আমরা জনস্বার্থে বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে রীট পিটিশন দায়ের করতে বাধ্য হয়েছি, যা বিচারাধীন রয়েছে।

 

খাজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্থানান্তর না করতে এবং ষড়যন্ত্রকারী দুর্নীতিবাজ তহশীলদারের অপসারণের দাবি জানিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।