Dhaka ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন, কদর বেড়েছে পাটকাঠির

চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন

শষ্যভাণ্ডারখ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চলতি মৌসুমে সোনালি আঁশ পাটের ভালো ফলন হয়েছে। মৌসুমের প্রথম দিকে পাটের দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও বর্তমানে কমেছে পাটের বাজারদর। তাই উৎপাদন খরচ ওঠাতে কৃষকদের চোখ এখন পাটকাঠির দিকে। বাণিজ্যিকভাবে পাটকাঠির ব্যবহার বৃদ্ধিতে এর প্রতি যত্নবান হয়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে পাটের আঁশের লোকসান পুষিয়ে নিতে পাটকাঠিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে  চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫৫ হেক্টর জমি। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ভালো মানের পাট প্রতি মণ ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। নিম্নমানের পাট ২০০০ থেকে ২৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাটচাষিরা বলছেন, অনাবৃষ্টি, শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি, পাট পচানোর জন্য পুকুর ভাড়াসহ নানা কারণে পাটের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অথচ বাজারে পাটের দাম একেবারই কম। তবে পরিবর্তন হচ্ছে না শুধু পাটখড়ির; তাই পাটের আঁশের লোকসান পুষিয়ে নিতে পাটকাঠিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলা ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আজাদ প্রামাণিক জানান, এ বছর পাট নিয়ে ভোগান্তিতে ছিলেন। পানির অভাবে পাট কাটতে পারছিলেন না। এলাকার একজনের পুকুরে জমির পাট জাগ দিয়েছিলেন। অল্প পানিতে পাট জাগ দেওয়ায় পাটের রঙ ভালো আসেনি। তার পরও ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছেন। এখন পাটকাঠি শুকানোর কাজ করছেন। কিছু পাটকাঠি নিজের প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন বাড়িতে। বাকি পাটকাঠি বিক্রি করে দিয়েছেন। পাটকাঠির বাণিজ্যিক ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় একই ফসলে বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা হয়েছে আমাদের।
উপজেলার সাহেবগঞ্জ ব্ল­কের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, এবার আমি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম, তবে পড়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। এখন পাটকাঠি বিক্রি করেও ভালো দাম পাচ্ছি। আমি মনে করি পাটকাঠি হলো কৃষকদের জন্য বাড়তি লাভ।
উপজেলার সাহেবগঞ্জ ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, গত বছরের তুলনায় এবার আমাদের এলাকায় পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি সেই সঙ্গে পাটের ফলনও অনেক বেশি। এলাকার কৃষকরা যাতে পাট যথাযথভাবে উৎপাদন করতে এ জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের কাছে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার জানান  গত বছরের চেয়ে এ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাটের ফলন ভালো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন জানান  পাটের আঁশের সঙ্গে পাটকাঠিও কৃষকদের আর্থিক সমর্থন দিতে পারে। আগে শুধু পাটকাঠি রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো; কিন্তু এখন পাটকাঠি দিয়ে ঘর নির্মাণ করা, পানের বরোজ তৈরি ছাড়াও এগুলো দিয়ে পার্টিকেল বোর্ড ও পাটকাঠি পুড়িয়ে এর ছাই দিয়ে কম্পিউটারের প্রিন্টারের কালি তেরিতে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে জেলায় এবার পাটের দাম কিছুটা কম থাকলেও পাটখড়ির দাম এবার ভালো।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

rt5dyrtyrtyt

নওগাঁয় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন, কদর বেড়েছে পাটকাঠির

Update Time : ১১:৪৫:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
শষ্যভাণ্ডারখ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চলতি মৌসুমে সোনালি আঁশ পাটের ভালো ফলন হয়েছে। মৌসুমের প্রথম দিকে পাটের দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও বর্তমানে কমেছে পাটের বাজারদর। তাই উৎপাদন খরচ ওঠাতে কৃষকদের চোখ এখন পাটকাঠির দিকে। বাণিজ্যিকভাবে পাটকাঠির ব্যবহার বৃদ্ধিতে এর প্রতি যত্নবান হয়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে পাটের আঁশের লোকসান পুষিয়ে নিতে পাটকাঠিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে  চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫৫ হেক্টর জমি। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ভালো মানের পাট প্রতি মণ ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। নিম্নমানের পাট ২০০০ থেকে ২৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাটচাষিরা বলছেন, অনাবৃষ্টি, শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি, পাট পচানোর জন্য পুকুর ভাড়াসহ নানা কারণে পাটের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অথচ বাজারে পাটের দাম একেবারই কম। তবে পরিবর্তন হচ্ছে না শুধু পাটখড়ির; তাই পাটের আঁশের লোকসান পুষিয়ে নিতে পাটকাঠিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলা ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আজাদ প্রামাণিক জানান, এ বছর পাট নিয়ে ভোগান্তিতে ছিলেন। পানির অভাবে পাট কাটতে পারছিলেন না। এলাকার একজনের পুকুরে জমির পাট জাগ দিয়েছিলেন। অল্প পানিতে পাট জাগ দেওয়ায় পাটের রঙ ভালো আসেনি। তার পরও ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছেন। এখন পাটকাঠি শুকানোর কাজ করছেন। কিছু পাটকাঠি নিজের প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন বাড়িতে। বাকি পাটকাঠি বিক্রি করে দিয়েছেন। পাটকাঠির বাণিজ্যিক ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় একই ফসলে বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা হয়েছে আমাদের।
উপজেলার সাহেবগঞ্জ ব্ল­কের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, এবার আমি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম, তবে পড়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। এখন পাটকাঠি বিক্রি করেও ভালো দাম পাচ্ছি। আমি মনে করি পাটকাঠি হলো কৃষকদের জন্য বাড়তি লাভ।
উপজেলার সাহেবগঞ্জ ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, গত বছরের তুলনায় এবার আমাদের এলাকায় পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি সেই সঙ্গে পাটের ফলনও অনেক বেশি। এলাকার কৃষকরা যাতে পাট যথাযথভাবে উৎপাদন করতে এ জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের কাছে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার জানান  গত বছরের চেয়ে এ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাটের ফলন ভালো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন জানান  পাটের আঁশের সঙ্গে পাটকাঠিও কৃষকদের আর্থিক সমর্থন দিতে পারে। আগে শুধু পাটকাঠি রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো; কিন্তু এখন পাটকাঠি দিয়ে ঘর নির্মাণ করা, পানের বরোজ তৈরি ছাড়াও এগুলো দিয়ে পার্টিকেল বোর্ড ও পাটকাঠি পুড়িয়ে এর ছাই দিয়ে কম্পিউটারের প্রিন্টারের কালি তেরিতে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে জেলায় এবার পাটের দাম কিছুটা কম থাকলেও পাটখড়ির দাম এবার ভালো।