Dhaka ১২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেপালে ১৭ বছরে ১৩বার সরকার প’রি’ব’র্ত’ন

  • আন্তর্জাতিক
  • Update Time : ০৩:০৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৭০০ Time View

হিমালয়কন্যা নেপাল আবারও গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি। দুই দিনের জেন-জি আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেছেন। তবে পদত্যাগই আন্দোলনকারীদের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়; তারা নতুন সরকার গঠনের দাবি তুলেছে।

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেপালের বর্তমান অস্থিরতা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস। ২০০৬ সালের গণআন্দোলনের সময়, যখন শেষ রাজা জ্ঞানেদ্র শাহ নির্বাহী ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন, তৎকালীন আন্দোলনে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছিল। ওই আন্দোলনের দুই বছর পর ২০০৮ সালে নেপালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে নতুন প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়।

 

তবে প্রজাতন্ত্র ঘোষণার পরও দেশটিতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা হয়নি। ২০০৮ সালের পর থেকে নেপাল ইতোমধ্যেই ১৭ বছরে ১৩ বার সরকার পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলবাজি এবং দুর্নীতি জনগণের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। কাঠমান্ডুর এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম রাজতন্ত্র শেষ হলে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে। কিন্তু বছর ঘুরে বছর শুধু দুর্নীতি, দলবাজি আর ক্ষমতার লড়াই বেড়েছে।

 

রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হলেও দেশে এখনও একাংশ রাজতন্ত্র পুনর্বহালের পক্ষে সক্রিয়। চলতি বছরের মার্চে কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হন।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, অলি পদত্যাগের পরও রাজনৈতিক সমাধান সহজ নয়। আন্দোলনকারীরা যদি সরকারের বিলুপ্তি দাবি করে, তাহলে তা দেশটিকে আরও দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। দ্রুত নতুন নেতৃত্ব ও কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নেপাল আবারও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে পারে।

 

আল-জাজিরা জানিয়েছে, নেপালের রাজনৈতিক সংকট শুধু একটি সরকারের সমস্যা নয়, এটি দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় সংলাপ, রাজনৈতিক সমঝোতা ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়ন ছাড়া দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

About Author Information

জনপ্রিয়
rt5dyrtyrtyt

নেপালে ১৭ বছরে ১৩বার সরকার প’রি’ব’র্ত’ন

Update Time : ০৩:০৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

হিমালয়কন্যা নেপাল আবারও গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি। দুই দিনের জেন-জি আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেছেন। তবে পদত্যাগই আন্দোলনকারীদের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়; তারা নতুন সরকার গঠনের দাবি তুলেছে।

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেপালের বর্তমান অস্থিরতা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস। ২০০৬ সালের গণআন্দোলনের সময়, যখন শেষ রাজা জ্ঞানেদ্র শাহ নির্বাহী ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন, তৎকালীন আন্দোলনে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছিল। ওই আন্দোলনের দুই বছর পর ২০০৮ সালে নেপালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে নতুন প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়।

 

তবে প্রজাতন্ত্র ঘোষণার পরও দেশটিতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা হয়নি। ২০০৮ সালের পর থেকে নেপাল ইতোমধ্যেই ১৭ বছরে ১৩ বার সরকার পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলবাজি এবং দুর্নীতি জনগণের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। কাঠমান্ডুর এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম রাজতন্ত্র শেষ হলে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে। কিন্তু বছর ঘুরে বছর শুধু দুর্নীতি, দলবাজি আর ক্ষমতার লড়াই বেড়েছে।

 

রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হলেও দেশে এখনও একাংশ রাজতন্ত্র পুনর্বহালের পক্ষে সক্রিয়। চলতি বছরের মার্চে কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হন।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, অলি পদত্যাগের পরও রাজনৈতিক সমাধান সহজ নয়। আন্দোলনকারীরা যদি সরকারের বিলুপ্তি দাবি করে, তাহলে তা দেশটিকে আরও দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। দ্রুত নতুন নেতৃত্ব ও কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নেপাল আবারও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে পারে।

 

আল-জাজিরা জানিয়েছে, নেপালের রাজনৈতিক সংকট শুধু একটি সরকারের সমস্যা নয়, এটি দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় সংলাপ, রাজনৈতিক সমঝোতা ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়ন ছাড়া দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।