Dhaka ১২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁ’দা’বা’জি করতে যেয়ে জনতার হাতে আ’ট’ক মেহেদী হাসান

শ্যামনগরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতে যেয়ে মেহেদী হাসান(২৭) নামে এক যুবক জনতার হাতে আটক হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে শ্যামনগর পৌর সদরের মহসীন কলেজ সড়ক থেকে স্থানীয়রা আটক করে তাকে থানায় পুলিশে সোপর্দ করে। তিনি শ্যামনগর উপজেলার খাসকাটা আবাদচন্ডিপুর গ্রামের এবাদুল মোল্যার ছেলে।

 

অভিযোগ রয়েছে মেহেদীর নেতৃত্বে সাত আটজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র শ্যামনগর ও সুন্দরবন এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে বেশুমার চাঁদাবাজি করে। সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের নিকট থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে। এমনকি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের নানান অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার হুমকি দিয়েও তারা অর্থ আদায় করে।

 

জানা গেছে মেহেদী হাসান ইতিপূর্বে শ্যামনগর থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মোটর সাইকেল চালানোর পাশাপাশি সোর্স হিসেবে কাজ করতো। সে সময় পুলিশ দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে উঠিয়ে দেয়ার ভয় প্রদর্শন করে টাকা আদায় করতো।

 

পরবর্তীতে ৫ আগষ্টের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এই প্রতারক আত্মগোপনে চলে যায়।

 

অভিযোগ রয়েছে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেও নিজের চক্রের সদস্যদের দিয়ে দিব্যি চাঁদাবাজ চালিয়ে যাচ্ছিল মেহেদী। গত কয়েকদিন ধরে সে ইজিবাইক মেকানিক সোয়ালিয়া গ্রামের সজিবকে ২০ হাজার টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। একপর্যায়ে সজিব তাকে টাকা নেয়ার জন্য স্ব শরীরে আসার অনুরোধ জানায়। শুক্রবার বিকালে টাকা নিতে আসার পর পরিকল্পনামত পাশে অবস্থানরত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

 

সজিব জানান ইতিপূর্বে তাকে ব্লাকমেইলিং করে ১০ হাজার টাকা আদায় করেছিল সজিব ও সাগর। একইভাবে তাকে নিয়ে খারাপ নিউজ করার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা নেয়ার জন্য এলাকায় ফেরার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ধরে পুলিশে দিয়েছে।

 

স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী গোলাম মোস্তফা জানান তার এক বন্ধুকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে ২২ হাজার টাকা নিয়েছিল।

 

এদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে মেহেদীর সহযোগীরা বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিস, বনবিভাগের বিভিন্ন দপ্তর এমনকি থানায় কর্মরত অনেক পুলিশ সদস্যদের নিকট থেকে চাঁদাবাজি করে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার ভয় দেখানো হয়।

 

এবিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে মেহেদী নামের একজনকে উত্তেজিত জনতা ধরে থানায় এনে দিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতিও। মেহেদীর বিষয়ে বিস্তারিত খোজ নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ সাপেক্ষ্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।

About Author Information

জনপ্রিয়
rt5dyrtyrtyt

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁ’দা’বা’জি করতে যেয়ে জনতার হাতে আ’ট’ক মেহেদী হাসান

Update Time : ০১:৩১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শ্যামনগরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতে যেয়ে মেহেদী হাসান(২৭) নামে এক যুবক জনতার হাতে আটক হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে শ্যামনগর পৌর সদরের মহসীন কলেজ সড়ক থেকে স্থানীয়রা আটক করে তাকে থানায় পুলিশে সোপর্দ করে। তিনি শ্যামনগর উপজেলার খাসকাটা আবাদচন্ডিপুর গ্রামের এবাদুল মোল্যার ছেলে।

 

অভিযোগ রয়েছে মেহেদীর নেতৃত্বে সাত আটজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র শ্যামনগর ও সুন্দরবন এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে বেশুমার চাঁদাবাজি করে। সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের নিকট থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে। এমনকি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের নানান অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার হুমকি দিয়েও তারা অর্থ আদায় করে।

 

জানা গেছে মেহেদী হাসান ইতিপূর্বে শ্যামনগর থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মোটর সাইকেল চালানোর পাশাপাশি সোর্স হিসেবে কাজ করতো। সে সময় পুলিশ দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে উঠিয়ে দেয়ার ভয় প্রদর্শন করে টাকা আদায় করতো।

 

পরবর্তীতে ৫ আগষ্টের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এই প্রতারক আত্মগোপনে চলে যায়।

 

অভিযোগ রয়েছে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেও নিজের চক্রের সদস্যদের দিয়ে দিব্যি চাঁদাবাজ চালিয়ে যাচ্ছিল মেহেদী। গত কয়েকদিন ধরে সে ইজিবাইক মেকানিক সোয়ালিয়া গ্রামের সজিবকে ২০ হাজার টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। একপর্যায়ে সজিব তাকে টাকা নেয়ার জন্য স্ব শরীরে আসার অনুরোধ জানায়। শুক্রবার বিকালে টাকা নিতে আসার পর পরিকল্পনামত পাশে অবস্থানরত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

 

সজিব জানান ইতিপূর্বে তাকে ব্লাকমেইলিং করে ১০ হাজার টাকা আদায় করেছিল সজিব ও সাগর। একইভাবে তাকে নিয়ে খারাপ নিউজ করার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা নেয়ার জন্য এলাকায় ফেরার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ধরে পুলিশে দিয়েছে।

 

স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী গোলাম মোস্তফা জানান তার এক বন্ধুকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে ২২ হাজার টাকা নিয়েছিল।

 

এদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে মেহেদীর সহযোগীরা বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিস, বনবিভাগের বিভিন্ন দপ্তর এমনকি থানায় কর্মরত অনেক পুলিশ সদস্যদের নিকট থেকে চাঁদাবাজি করে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার ভয় দেখানো হয়।

 

এবিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে মেহেদী নামের একজনকে উত্তেজিত জনতা ধরে থানায় এনে দিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতিও। মেহেদীর বিষয়ে বিস্তারিত খোজ নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ সাপেক্ষ্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।