Dhaka ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সীডলেস লেবু চাষে কানাইদিয়ার শেখ আব্দুর রশিদের সফলতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ৩১৪ Time View

শেখ আব্দুল গফুর, কপিলমুনি (খুলনা) অফিস: তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রামে একজন  বৃক্ষ প্রেমিক শুধুমাত্র শখের বসে
মাত্র ২২ শতক জমিতে ৫১ টি সীডলেস লেবুর চারা রোপন করে কৃষি কাজ
শুরু করেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা  শেখ আব্দুর রশিদ। চাকুরীর সুবাদে বদলী
হয়ে যে এলাকায় যেতেন সেখানেই বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষ দেখে আকৃষ্ট হতেন।
চাকুরী জীবনে অবসর নেন ২০০৯ সালে। এরপর তিনি কৃষি কাজের উদ্যোগ
গ্রহণ করলে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিশেষ
অনুরোধে তিনি বেশ কিছুদিন সেই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসেবে
দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু প্রবল ইচ্ছা শক্তির কারণে তাকে আর বেশিদিন
বেঁধে রাখা সম্ভব হয়নি। ফিরে আসেন কৃষি কাজে। কোন পূর্ব
অভিজ্ঞতা ছাড়াই ২০২১ সালের ২৫ জুন  থেকে লেবু চাষের মধ্যমে তিনি
মাসুমা লেমন প্রজেক্ট নাম দিয়ে কৃষিকাজ শুরু  করেন। পরিবারের চাহিদা
মেটানোর পাশাপাশি বিক্রি করে বেশ অর্থ উপার্জন করেন। তার বাগানে
প্রায় বার মাসই লেবুতে ভরপুর থাকে। কৃষি কাজের অভিজ্ঞতা আছে কিনা
জানতে চাইলে তিনি বলেন ইউটিউবের কৃষি চ্যানেলগুলো অনুসরণ করি।
প্রথম দিকে একটু অসুবিধা হতো এখন আর তেমন কোন সমস্যা হয় না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়  বাগানে শোভা পাচ্ছে কয়েক প্রজাতির
লেবু।তিনি আরো জানান কপিলমুনি এস কে লেমন গার্ডেন থেকে ৫১
পিচ লেবুর কলম সংগ্রহ করে বাড়ির পাশের জমিতে রোপন করি । বছর যেতে
না যেতেই গাছে ফুল এসে ভরে যায়। মাস খানেকের মধ্যেই গাছে লেবু ধরা
শুরু হয়।  নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বছরে তিনি ১ লক্ষ টাকার লেবু বিক্রি
করেন। গাছে লেবুর পরিমাণ ভালো হওয়ায় লেবু চাষে আগ্রহ তৈরি হয়।  পরে
তিনি বাড়ির পাশে আরো সাড়ে ১৬ শতাংশ জমিতে সিডলেস , শরবতি ও
কাগজি লেবুর  চারা রোপণ করেন।লেবু বিক্রির আয় থেকে সংসারের
বিভিন্ন কাজে খরচের পাশাপাশি টাকা জমাতে শুরু করেছেন। তিনি
বলেন,আগে এলাকায় এই লেবুর বাগান ছিল না। শখের বসে লেবুর চারা এনে
রোপণ করেছিলাম।  এখন লেবুর বাগান থেকে ভাল লাভ আসছে। আগামীতে
বানিজ্যিক হারে লেবুর বাগান করবেন বলে  তিনি জানান। লেবুর পাশাপাশি
লেবুর কলম করে বছরে আরো ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করছেন। এ ছাড়াও তার
বাগানে শোভা পাচ্ছে সুমিষ্ট মালটা,  কলাগাছ, ড্রাগন, বরুই,আম,
লিচু  সহ বেশ কয়েক প্রজাতির ফল। তার দেখাদেখি অনেকেই লেবু চাষে
আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বেকার তরুনদের লেবুর বাগান করে স্বাবলম্বী হওয়ার
পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, তার এক ছেলে ঢাকায় থাকেন এবং মেয়ে
কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ।
ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি সুখী । তিনি এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন
করেছেন। তার বাগানের উৎপাদিত  লেবু অনেকেই নিয়ে খাচ্ছেন। গুণে ও
স্বাদে অসাধারণ। তার দেখাদেখি অনেকেই লেবু চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। এভাবে
কৃষিতে সফলতা পেলে দেশ কৃষিতে স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।আশা করি
আগামীতে লেবু চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে কৃষি খাতে ব্যাপক
সাফল্য বয়ে আনবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

rt5dyrtyrtyt

সীডলেস লেবু চাষে কানাইদিয়ার শেখ আব্দুর রশিদের সফলতা

Update Time : ১২:০৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

শেখ আব্দুল গফুর, কপিলমুনি (খুলনা) অফিস: তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রামে একজন  বৃক্ষ প্রেমিক শুধুমাত্র শখের বসে
মাত্র ২২ শতক জমিতে ৫১ টি সীডলেস লেবুর চারা রোপন করে কৃষি কাজ
শুরু করেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা  শেখ আব্দুর রশিদ। চাকুরীর সুবাদে বদলী
হয়ে যে এলাকায় যেতেন সেখানেই বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষ দেখে আকৃষ্ট হতেন।
চাকুরী জীবনে অবসর নেন ২০০৯ সালে। এরপর তিনি কৃষি কাজের উদ্যোগ
গ্রহণ করলে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিশেষ
অনুরোধে তিনি বেশ কিছুদিন সেই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসেবে
দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু প্রবল ইচ্ছা শক্তির কারণে তাকে আর বেশিদিন
বেঁধে রাখা সম্ভব হয়নি। ফিরে আসেন কৃষি কাজে। কোন পূর্ব
অভিজ্ঞতা ছাড়াই ২০২১ সালের ২৫ জুন  থেকে লেবু চাষের মধ্যমে তিনি
মাসুমা লেমন প্রজেক্ট নাম দিয়ে কৃষিকাজ শুরু  করেন। পরিবারের চাহিদা
মেটানোর পাশাপাশি বিক্রি করে বেশ অর্থ উপার্জন করেন। তার বাগানে
প্রায় বার মাসই লেবুতে ভরপুর থাকে। কৃষি কাজের অভিজ্ঞতা আছে কিনা
জানতে চাইলে তিনি বলেন ইউটিউবের কৃষি চ্যানেলগুলো অনুসরণ করি।
প্রথম দিকে একটু অসুবিধা হতো এখন আর তেমন কোন সমস্যা হয় না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়  বাগানে শোভা পাচ্ছে কয়েক প্রজাতির
লেবু।তিনি আরো জানান কপিলমুনি এস কে লেমন গার্ডেন থেকে ৫১
পিচ লেবুর কলম সংগ্রহ করে বাড়ির পাশের জমিতে রোপন করি । বছর যেতে
না যেতেই গাছে ফুল এসে ভরে যায়। মাস খানেকের মধ্যেই গাছে লেবু ধরা
শুরু হয়।  নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বছরে তিনি ১ লক্ষ টাকার লেবু বিক্রি
করেন। গাছে লেবুর পরিমাণ ভালো হওয়ায় লেবু চাষে আগ্রহ তৈরি হয়।  পরে
তিনি বাড়ির পাশে আরো সাড়ে ১৬ শতাংশ জমিতে সিডলেস , শরবতি ও
কাগজি লেবুর  চারা রোপণ করেন।লেবু বিক্রির আয় থেকে সংসারের
বিভিন্ন কাজে খরচের পাশাপাশি টাকা জমাতে শুরু করেছেন। তিনি
বলেন,আগে এলাকায় এই লেবুর বাগান ছিল না। শখের বসে লেবুর চারা এনে
রোপণ করেছিলাম।  এখন লেবুর বাগান থেকে ভাল লাভ আসছে। আগামীতে
বানিজ্যিক হারে লেবুর বাগান করবেন বলে  তিনি জানান। লেবুর পাশাপাশি
লেবুর কলম করে বছরে আরো ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করছেন। এ ছাড়াও তার
বাগানে শোভা পাচ্ছে সুমিষ্ট মালটা,  কলাগাছ, ড্রাগন, বরুই,আম,
লিচু  সহ বেশ কয়েক প্রজাতির ফল। তার দেখাদেখি অনেকেই লেবু চাষে
আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বেকার তরুনদের লেবুর বাগান করে স্বাবলম্বী হওয়ার
পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, তার এক ছেলে ঢাকায় থাকেন এবং মেয়ে
কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ।
ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি সুখী । তিনি এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন
করেছেন। তার বাগানের উৎপাদিত  লেবু অনেকেই নিয়ে খাচ্ছেন। গুণে ও
স্বাদে অসাধারণ। তার দেখাদেখি অনেকেই লেবু চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। এভাবে
কৃষিতে সফলতা পেলে দেশ কৃষিতে স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।আশা করি
আগামীতে লেবু চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে কৃষি খাতে ব্যাপক
সাফল্য বয়ে আনবে।