Dhaka ১২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হামাস এরদোয়ানের বক্তব্যকে স্বাগত জানালো

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
  • ৬৫১ Time View

বিদেশ : ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘মুক্তির আন্দোলন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। খবর ডেইলি সাবাহ’র। স্থানীয় সময় বুধবার আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) পার্লামেন্টারি গ্রæপের বৈঠকে এরদোয়ান বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যে লিখিত বিবৃতিতে হামাস জানায়, এরদোয়ানের বক্তব্যে তারা গর্বিত। বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা ও মাতৃভ‚মির মুক্তির সংগ্রামে এরদোয়ানের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানকে হামাস গুরুত্ব দেয়। হামাস এরদোয়ানের প্রশংসা শুনতে পেরে ও প্রশংসা করতে পেরে গর্বিত। হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাহসী বক্তব্য এবং তার মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ভ্রাতৃপ্রতিম তুর্কি জনগণের ঐতিহাসিক ও প্রকৃত অবস্থানকে বাস্তবায়িত করেছে। গত ৭ অক্টোবর গাজায় প্রাণঘাতি সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন এরদোয়ান। হামাসের সংগ্রামকে ১০০ বছর আগের তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে এরদোয়ান বলেন, আমরা এটা বলার মূল্য সম্পর্কে ভালোভাবে জানি, কিন্তু বিশ্বকে অবশ্যই সত্যটা জানতে হবে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুরস্কের সংবেদনশীলতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, আমি ফিলিস্তিনের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাব এবং নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে থাকবো। এমনকি যদি আমাকে একা ছেড়ে দেওয়া হয়…। ডেইলি সাবাহ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরদোয়ান সরকার গাজা উপত্যকা শাসনকারী হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কিছু ইউরোপীয় দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো তুরস্ক হামাসকে কখনো ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে শ্রেণিবদ্ধ করে না। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, হামাসকে ‘মুক্তি আন্দোলন’ বলার মতো সাহস আমরাই করেছি। যারা হামাসকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ইসরাইলকে প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করছে…, তুরস্ক ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সংগ্রামকে প্রতিটি বাঁকে রক্ষা করে যাবে। এরদোয়ান ‘বেশ কয়েকটি বিষয়’ নিয়ে আলোচনার জন্য সামনের শনিবার ইস্তাম্বুলে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি, ইসরাইলের বেআইনি হামলা, যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির বিষয়ে আলোচনা নিয়ে হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে আঙ্কারা। গত সপ্তাহে গাজার একটি শরণার্থী শিবিরে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিন ছেলে ও কয়েকজন নাতি-নাতনিকে হারানোর পর হামাস নেতা হানিয়ার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে দেশটি। জাতিসংঘের মতে, খাদ্য, নিরাপদ পানি ও ওষুধের মতো মৌলিক জিনিসগুলো অবরোধের মাধ্যমে গাজার ৮৫% জনগণকে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির দিকে ঠেলে দিয়েছে ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসন। ছিটমহলের ৬০% অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত জানুয়ারিতে ইসরায়েলকে গণহত্যা না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এবং গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

rt5dyrtyrtyt

হামাস এরদোয়ানের বক্তব্যকে স্বাগত জানালো

Update Time : ০১:০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

বিদেশ : ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘মুক্তির আন্দোলন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। খবর ডেইলি সাবাহ’র। স্থানীয় সময় বুধবার আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) পার্লামেন্টারি গ্রæপের বৈঠকে এরদোয়ান বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যে লিখিত বিবৃতিতে হামাস জানায়, এরদোয়ানের বক্তব্যে তারা গর্বিত। বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা ও মাতৃভ‚মির মুক্তির সংগ্রামে এরদোয়ানের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানকে হামাস গুরুত্ব দেয়। হামাস এরদোয়ানের প্রশংসা শুনতে পেরে ও প্রশংসা করতে পেরে গর্বিত। হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাহসী বক্তব্য এবং তার মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ভ্রাতৃপ্রতিম তুর্কি জনগণের ঐতিহাসিক ও প্রকৃত অবস্থানকে বাস্তবায়িত করেছে। গত ৭ অক্টোবর গাজায় প্রাণঘাতি সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন এরদোয়ান। হামাসের সংগ্রামকে ১০০ বছর আগের তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে এরদোয়ান বলেন, আমরা এটা বলার মূল্য সম্পর্কে ভালোভাবে জানি, কিন্তু বিশ্বকে অবশ্যই সত্যটা জানতে হবে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুরস্কের সংবেদনশীলতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, আমি ফিলিস্তিনের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাব এবং নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে থাকবো। এমনকি যদি আমাকে একা ছেড়ে দেওয়া হয়…। ডেইলি সাবাহ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরদোয়ান সরকার গাজা উপত্যকা শাসনকারী হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কিছু ইউরোপীয় দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো তুরস্ক হামাসকে কখনো ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে শ্রেণিবদ্ধ করে না। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, হামাসকে ‘মুক্তি আন্দোলন’ বলার মতো সাহস আমরাই করেছি। যারা হামাসকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ইসরাইলকে প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করছে…, তুরস্ক ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সংগ্রামকে প্রতিটি বাঁকে রক্ষা করে যাবে। এরদোয়ান ‘বেশ কয়েকটি বিষয়’ নিয়ে আলোচনার জন্য সামনের শনিবার ইস্তাম্বুলে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি, ইসরাইলের বেআইনি হামলা, যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির বিষয়ে আলোচনা নিয়ে হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে আঙ্কারা। গত সপ্তাহে গাজার একটি শরণার্থী শিবিরে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিন ছেলে ও কয়েকজন নাতি-নাতনিকে হারানোর পর হামাস নেতা হানিয়ার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে দেশটি। জাতিসংঘের মতে, খাদ্য, নিরাপদ পানি ও ওষুধের মতো মৌলিক জিনিসগুলো অবরোধের মাধ্যমে গাজার ৮৫% জনগণকে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির দিকে ঠেলে দিয়েছে ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসন। ছিটমহলের ৬০% অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত জানুয়ারিতে ইসরায়েলকে গণহত্যা না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এবং গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেছিল।