Dhaka ১০:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় ৭০ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

৭০ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ

সাতক্ষীরা সদরের শ্যামপুর গ্রামের ৭০ ঘর জনবসতির প্রায় ৩’শতাধিক জনসাধারণের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ উঠেছে বল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের বিরুদ্ধে। যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওই জনপদের সাধারণ জনগণ। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছে ভোক্তভোগী এলাকাবাসী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও ভোক্তভোগী চারু চন্দ্র সরকার জানান, মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্টার শর্ত রয়েছে ১ একর জমি স্কুলের নামে থাকতে হবে। স্কুলের নামে জমি কম থাকায় সে সময়ে আমাদের সম্প্রদায়ের যোগ্য একজনকে শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। ওই শিক্ষকসহ অপর একজন স্কুলে ২৫ শতক জমি দান করেন। সম্প্রদায়ের সবার রাস্তা দেওয়ার শর্তে তারা উভয়ে জমিটি স্কুলের নামে দান করেন। তৎকালীন শিক্ষকরা সেই দাবি মেনে নেন। দীর্ঘ বছর যাবত এই পথেই জনপদের বাসিন্দারা যাতায়াত করে আসছেন। যাতায়াতের স্বার্থে রাস্তাটিতে পরবর্তীতে সরকারিভাবে ইটের সলিং করা হয়। তাছাড়া এখানে একটি মন্দির রয়েছে, মন্দিরের প্রবেশের একমাত্র রাস্তা এটি। সম্প্রতি সময়ে বল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুল স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে এ রাস্তাটি সম্পূর্ণরূপে ঘেরা দিয়েছেন। ফলে এখানকার ৭০ টি পরিবারের প্রায় ৩ শতাধিক মানুষের যাতায়াতের চরম অসুবিধা তৈরি হয়েছে।
 তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে বল্লী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। যেহেতু বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি’র দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাই চেয়ারম্যান বিষয়টি নির্বাহী অফিসারকে জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এখানে পরিদর্শন করবেন বলে শুনেছি।
স্থানীয় মৃত্যুঞ্জয় নামের অপর এক বাসিন্দা জানান, আমাদের পাড়ায় প্রবেশের একমাত্র রাস্তা এটি। এখানকার ৭০ ঘর বসতির দীর্ঘ বছরের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি।  এই রাস্তাটি ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা  নেই এখানে। যদিও জায়গাটি প্রতিষ্টানের তবে যারা দান করেছে তারা এই পাড়ার বাসিন্দা, যাতায়াতের শর্তে জমিটি স্কুলের নামে দান করেন। দীর্ঘ বছর যাবত যাতায়াতের এই রাস্তাটি সরকারি বাজেটে পাকাও হয় এক সময়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুল উপরের নির্দেশ আছে এটা বলে রাস্তাটি বাঁশ দিয়ে ঘেরাও দিয়েছেন। বর্তমানে এই পাড়ার সকলের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে  যাতায়াতের রাস্তাটি পূর্বের ন্যায় চালু করা হয় সেই দাবি এখানকার সবার।
বল্লী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম জানান, রাস্তাটি দীর্ঘ বছর আগে থেকে ওই এলাকার মানুষ ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি রাস্তা বন্ধের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। তিনি রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার কথা ছিলো তবে আসতে পারেননি। তবে সোমবান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এখানে আসবেন। তিনি বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে বল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুল জানান, একটি জমি ছিল ফেলানো যেটার উপর দিয়ে পার্শ্ববর্তী সম্প্রদায়ের লোকজন যাতায়াত করত। সেখানে দোকান তৈরি করছিল যেটি স্কুলের জায়গার মধ্যে হওয়ায় বাঁধা প্রদান করা হয়।  সার্ভিয়ার এনে মাপজরিপ করে দেখা যায় যেখানে দোকান তৈরি করছিল সেটি আমাদের জায়গার মধ্যে পড়ে। পরবর্তীতে সেখানে ঘেরাও দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তিনি পরিদর্শন করে যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটি বহাল থাকবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোয়াইব আহমাদ জানান, রাস্তা বন্ধের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আজ বিকেলে সেখানে পরিদর্শন করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

rt5dyrtyrtyt

সাতক্ষীরায় ৭০ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

Update Time : ০২:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪
সাতক্ষীরা সদরের শ্যামপুর গ্রামের ৭০ ঘর জনবসতির প্রায় ৩’শতাধিক জনসাধারণের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ উঠেছে বল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের বিরুদ্ধে। যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওই জনপদের সাধারণ জনগণ। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছে ভোক্তভোগী এলাকাবাসী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও ভোক্তভোগী চারু চন্দ্র সরকার জানান, মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্টার শর্ত রয়েছে ১ একর জমি স্কুলের নামে থাকতে হবে। স্কুলের নামে জমি কম থাকায় সে সময়ে আমাদের সম্প্রদায়ের যোগ্য একজনকে শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। ওই শিক্ষকসহ অপর একজন স্কুলে ২৫ শতক জমি দান করেন। সম্প্রদায়ের সবার রাস্তা দেওয়ার শর্তে তারা উভয়ে জমিটি স্কুলের নামে দান করেন। তৎকালীন শিক্ষকরা সেই দাবি মেনে নেন। দীর্ঘ বছর যাবত এই পথেই জনপদের বাসিন্দারা যাতায়াত করে আসছেন। যাতায়াতের স্বার্থে রাস্তাটিতে পরবর্তীতে সরকারিভাবে ইটের সলিং করা হয়। তাছাড়া এখানে একটি মন্দির রয়েছে, মন্দিরের প্রবেশের একমাত্র রাস্তা এটি। সম্প্রতি সময়ে বল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুল স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে এ রাস্তাটি সম্পূর্ণরূপে ঘেরা দিয়েছেন। ফলে এখানকার ৭০ টি পরিবারের প্রায় ৩ শতাধিক মানুষের যাতায়াতের চরম অসুবিধা তৈরি হয়েছে।
 তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে বল্লী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। যেহেতু বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি’র দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাই চেয়ারম্যান বিষয়টি নির্বাহী অফিসারকে জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এখানে পরিদর্শন করবেন বলে শুনেছি।
স্থানীয় মৃত্যুঞ্জয় নামের অপর এক বাসিন্দা জানান, আমাদের পাড়ায় প্রবেশের একমাত্র রাস্তা এটি। এখানকার ৭০ ঘর বসতির দীর্ঘ বছরের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি।  এই রাস্তাটি ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা  নেই এখানে। যদিও জায়গাটি প্রতিষ্টানের তবে যারা দান করেছে তারা এই পাড়ার বাসিন্দা, যাতায়াতের শর্তে জমিটি স্কুলের নামে দান করেন। দীর্ঘ বছর যাবত যাতায়াতের এই রাস্তাটি সরকারি বাজেটে পাকাও হয় এক সময়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুল উপরের নির্দেশ আছে এটা বলে রাস্তাটি বাঁশ দিয়ে ঘেরাও দিয়েছেন। বর্তমানে এই পাড়ার সকলের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে  যাতায়াতের রাস্তাটি পূর্বের ন্যায় চালু করা হয় সেই দাবি এখানকার সবার।
বল্লী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম জানান, রাস্তাটি দীর্ঘ বছর আগে থেকে ওই এলাকার মানুষ ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি রাস্তা বন্ধের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। তিনি রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার কথা ছিলো তবে আসতে পারেননি। তবে সোমবান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এখানে আসবেন। তিনি বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে বল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুল জানান, একটি জমি ছিল ফেলানো যেটার উপর দিয়ে পার্শ্ববর্তী সম্প্রদায়ের লোকজন যাতায়াত করত। সেখানে দোকান তৈরি করছিল যেটি স্কুলের জায়গার মধ্যে হওয়ায় বাঁধা প্রদান করা হয়।  সার্ভিয়ার এনে মাপজরিপ করে দেখা যায় যেখানে দোকান তৈরি করছিল সেটি আমাদের জায়গার মধ্যে পড়ে। পরবর্তীতে সেখানে ঘেরাও দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তিনি পরিদর্শন করে যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটি বহাল থাকবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোয়াইব আহমাদ জানান, রাস্তা বন্ধের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আজ বিকেলে সেখানে পরিদর্শন করা হবে।