Dhaka ১০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতি সামনের মাসেই চালু হচ্ছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ৩০৭ Time View

অর্থনীতি: ডলার দর নিয়ন্ত্রিত ও বাজারভিত্তিক করতে দ্রæত ক্রলিং পেগ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আসছে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ডলার-সংকট কাটাতে নেওয়া নানা উদ্যোগের কোনোটিই কাজে আসছে না। রিজার্ভও কমেছে। এবার ডলার-সংকট কাটাতে এর দর নিয়ন্ত্রিত ও বাজারভিত্তিক করতে আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশেই এটি কার্যকর ভ‚মিকা পালন করেছে। এ পদ্ধতি টাকার বিপরীতে ডলারের দামের ভিত্তি হবে রিয়াল ইফেকটিভ একচেঞ্জ রেট (রিয়ার) ও নমিনাল ইফেকটিভ একচেঞ্জ রেট (নিয়ার)। বৈশ্বিক মানদÐের আলোকে ‘ক্রলিং পেগ’ রেটের সঙ্গে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকার করিডোর রাখা হবে। আর স্মার্ট সুদহারের আলোকে বাংলাদেশ ফরেন একচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ডলারের দর নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে এক কর্মকর্তা জানান, ডলার-সংকট কাটছে না। সংকটের সুযোগে কারসাজিতে জড়িয়ে পড়েছে ব্যাংক-এক্সচেঞ্জ হাউজ। এ পরিস্থিতিতে ডলারের দর শতভাগ বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরিবেশ নেই। তাই গভর্নর ক্রলিং পেগ পদ্ধতি দ্রæত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের কারিগরি কমিটি ফেব্রæয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণে অসম্মতি জানিয়ে বিলম্ব করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই বিলম্বকে কেন্দ্র করে ক্রলিং পেগ মার্চেই দ্রæত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন গভর্নর রউফ তালুকদার। পরবর্তীকালে আইএমএফের সুপারিশ চলমান প্রক্রিয়ায় সমন্বয় হবে। দেশে সাময়িকভাবে ডলারের ধকল সামলাতে ক্রলিং পেগ চালু হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটাতে ল্যাটিন আমেরিকার উরুগুয়েতে প্রথম ক্রলিং পেগের প্রচলন ঘটে। বর্তমানে বতসোয়ানা, হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ায় ক্রলিং পেগ পদ্ধতি চালু রয়েছে। এ পদ্ধতিতে বিনিময় হার সমন্বয়ের একটি নির্দিষ্ট বিনিময় হারসহ ধীরে ধীরে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ওঠানামার সুযোগ রাখা হয়। কিছু দিন পর পর সমন্বয় করা যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে উচ্চ বিনিময় হারের অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের হুমকি এড়াতে নিয়ন্ত্রণমূলক ক্রলিং পেগ কার্যকর ভ‚মিকা রাখে। তবে মুদ্রাবাজার সংকট কেটে গেলে ক্রলিং পেগ কার্যকর থাকে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

rt5dyrtyrtyt

‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতি সামনের মাসেই চালু হচ্ছে

Update Time : ১২:৩৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

অর্থনীতি: ডলার দর নিয়ন্ত্রিত ও বাজারভিত্তিক করতে দ্রæত ক্রলিং পেগ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আসছে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ডলার-সংকট কাটাতে নেওয়া নানা উদ্যোগের কোনোটিই কাজে আসছে না। রিজার্ভও কমেছে। এবার ডলার-সংকট কাটাতে এর দর নিয়ন্ত্রিত ও বাজারভিত্তিক করতে আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশেই এটি কার্যকর ভ‚মিকা পালন করেছে। এ পদ্ধতি টাকার বিপরীতে ডলারের দামের ভিত্তি হবে রিয়াল ইফেকটিভ একচেঞ্জ রেট (রিয়ার) ও নমিনাল ইফেকটিভ একচেঞ্জ রেট (নিয়ার)। বৈশ্বিক মানদÐের আলোকে ‘ক্রলিং পেগ’ রেটের সঙ্গে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকার করিডোর রাখা হবে। আর স্মার্ট সুদহারের আলোকে বাংলাদেশ ফরেন একচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ডলারের দর নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে এক কর্মকর্তা জানান, ডলার-সংকট কাটছে না। সংকটের সুযোগে কারসাজিতে জড়িয়ে পড়েছে ব্যাংক-এক্সচেঞ্জ হাউজ। এ পরিস্থিতিতে ডলারের দর শতভাগ বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরিবেশ নেই। তাই গভর্নর ক্রলিং পেগ পদ্ধতি দ্রæত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের কারিগরি কমিটি ফেব্রæয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণে অসম্মতি জানিয়ে বিলম্ব করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই বিলম্বকে কেন্দ্র করে ক্রলিং পেগ মার্চেই দ্রæত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন গভর্নর রউফ তালুকদার। পরবর্তীকালে আইএমএফের সুপারিশ চলমান প্রক্রিয়ায় সমন্বয় হবে। দেশে সাময়িকভাবে ডলারের ধকল সামলাতে ক্রলিং পেগ চালু হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটাতে ল্যাটিন আমেরিকার উরুগুয়েতে প্রথম ক্রলিং পেগের প্রচলন ঘটে। বর্তমানে বতসোয়ানা, হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ায় ক্রলিং পেগ পদ্ধতি চালু রয়েছে। এ পদ্ধতিতে বিনিময় হার সমন্বয়ের একটি নির্দিষ্ট বিনিময় হারসহ ধীরে ধীরে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ওঠানামার সুযোগ রাখা হয়। কিছু দিন পর পর সমন্বয় করা যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে উচ্চ বিনিময় হারের অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের হুমকি এড়াতে নিয়ন্ত্রণমূলক ক্রলিং পেগ কার্যকর ভ‚মিকা রাখে। তবে মুদ্রাবাজার সংকট কেটে গেলে ক্রলিং পেগ কার্যকর থাকে না।