Dhaka ১২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসা অবহেলায় শিশু মৃ ত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"ai_enhance":1,"remove":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগরে অবস্থিত বেসরকারি বন্ধন হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

 

সিভিল সার্জনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বন্ধন হাসপাতালে দায়িত্বে অবহেলা ও চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সামগ্রী বিহীন স্বাস্থ্য সেবার কারণে এক নবজাতক শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গত ৪ জুন ২০২৫ সকালে হাসপাতালটিতে সরেজমিনে তদন্ত করে। তদন্তে উঠে আসে মনিরা পারভীন নামের এক প্রসূতি হাসপাতালটিতে বিকেল ৪টায় ভর্তি হন। কিন্তু দীর্ঘ সময় হাসপাতালটিতে কোন রেজিস্ট্রার চিকিৎসক ছিলেন না। এ কারণে নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়— “Asphyxia due to prolonged/obstructed labour” (প্রসবে দীর্ঘ বিলম্ব ও বাধাজনিত শ্বাসরোধ)।

 

বিগত ১৬ জুন সিভিল সার্জন ডা. মো. আ: সালাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ব্যর্থতায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা উল্লেখ করা হয়।

 

চিঠির অনুলিপি মহাপরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিচালক (স্বাস্থ্য) খুলনা বিভাগ, জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

 

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নজরদারি বাড়ানোর আহবান জানিয়েছে স্থানীয়রা।

 

স্থানীয়দের দাবি, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সহীন ও চিকিৎসকবিহীন হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৪ মে তারিখে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মোস্তাকিম বিল্লার স্ত্রী মনিরা পারভীনের প্রসব বেদনায় বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধনে ভর্তি হয়। ভর্তির পর থেকে শুরু করে সারারাত্রে ডাক্তার বা নার্সের কোন সেবা তারা পায়নি। বারং বার ডাক্তার ও নার্সের আবেদন করলে একজন আয়া কয়েকবার এসে দেখে যায় কিন্তু প্রসুতি যন্ত্রনায় মনিরা পারভীন ছটফট করলেও তারা কোন প্রকার সেবা দিতে পারিনি। প্রসব বেদনায় কাঁদরাতে থাকলে সিজারিয়া অপারেশনের দাবি জানালে তারা ডাক্তার নেই বলে জানায় এবং একপর্যায়ে রাত্র ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে ডাক্তার আসছে বলে আশ্বস্ত করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ আসেনি।

 

প্রসব যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে একপর্যায়ে সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার পরে শিশুটি জন্মগ্রহন করে কিন্তু জন্মের পর পরই সদ্যজাত শিশুটির চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো ডাক্তার, নার্স ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি এবং অক্সিজেন না থাকায় শিশুটি মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠে।

About Author Information

rt5dyrtyrtyt

চিকিৎসা অবহেলায় শিশু মৃ ত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

Update Time : ০৫:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগরে অবস্থিত বেসরকারি বন্ধন হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

 

সিভিল সার্জনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বন্ধন হাসপাতালে দায়িত্বে অবহেলা ও চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সামগ্রী বিহীন স্বাস্থ্য সেবার কারণে এক নবজাতক শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গত ৪ জুন ২০২৫ সকালে হাসপাতালটিতে সরেজমিনে তদন্ত করে। তদন্তে উঠে আসে মনিরা পারভীন নামের এক প্রসূতি হাসপাতালটিতে বিকেল ৪টায় ভর্তি হন। কিন্তু দীর্ঘ সময় হাসপাতালটিতে কোন রেজিস্ট্রার চিকিৎসক ছিলেন না। এ কারণে নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়— “Asphyxia due to prolonged/obstructed labour” (প্রসবে দীর্ঘ বিলম্ব ও বাধাজনিত শ্বাসরোধ)।

 

বিগত ১৬ জুন সিভিল সার্জন ডা. মো. আ: সালাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ব্যর্থতায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা উল্লেখ করা হয়।

 

চিঠির অনুলিপি মহাপরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিচালক (স্বাস্থ্য) খুলনা বিভাগ, জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

 

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নজরদারি বাড়ানোর আহবান জানিয়েছে স্থানীয়রা।

 

স্থানীয়দের দাবি, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সহীন ও চিকিৎসকবিহীন হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৪ মে তারিখে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মোস্তাকিম বিল্লার স্ত্রী মনিরা পারভীনের প্রসব বেদনায় বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধনে ভর্তি হয়। ভর্তির পর থেকে শুরু করে সারারাত্রে ডাক্তার বা নার্সের কোন সেবা তারা পায়নি। বারং বার ডাক্তার ও নার্সের আবেদন করলে একজন আয়া কয়েকবার এসে দেখে যায় কিন্তু প্রসুতি যন্ত্রনায় মনিরা পারভীন ছটফট করলেও তারা কোন প্রকার সেবা দিতে পারিনি। প্রসব বেদনায় কাঁদরাতে থাকলে সিজারিয়া অপারেশনের দাবি জানালে তারা ডাক্তার নেই বলে জানায় এবং একপর্যায়ে রাত্র ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে ডাক্তার আসছে বলে আশ্বস্ত করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ আসেনি।

 

প্রসব যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে একপর্যায়ে সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার পরে শিশুটি জন্মগ্রহন করে কিন্তু জন্মের পর পরই সদ্যজাত শিশুটির চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো ডাক্তার, নার্স ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি এবং অক্সিজেন না থাকায় শিশুটি মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠে।