Dhaka ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগর উপকূলে তাপদাহে সুপেয় পানির তীব্র সংকটঃ দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন রোগ

শ্যামনগর উপকূলে তাপদাহে সুপেয় পানির তীব্র সংকটঃ দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন রোগ

বৈশাখের এই তীব্র গরমে তো হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমা অঞ্চল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মানুষ প্রচন্ড তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। সর্বত্র প্রচন্ড খরতাপ  গরমে জনজীবনসহ প্রাণীকুল অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। বৈশাখের এই গরমে উপকূলীয় মানুষের বির্যস্থ হয়ে পড়েছে। ঘরে বৈদ্যুতিক ফ্যানের বাতাসেও আগুনের হাওয়া বইছে। অপরদিকে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। তাই হাসপাতাল গুলোতে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেশকিছু দিন ধরে তাপদাহে পুড়ছে সারাদেশ।
দুপুরে রোদে ঘরের বাইরে চলাচলকারীদের শরীরও মুখমন্ডল জ্বলতে থাকে।  অনেকে এই তীব্র খরতাপ ও ভ্যাপসা গরম থেকে একটু স্বস্থি পেতে দুই থেকে তিন বার গোসল করছেন মানুষ। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে শ্যামনগর সদর হাসপাতলে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, পানির অপর নাম জীবন হলেও। পানি এখন আমাদের বিপদ ডেকে আনছে। চারদিকে পানি থাকলেও  সুপেয় পানির জন্য হাহাকার করতে হচ্ছে। পানির জন্য কলসি হাতে দূর-দূরান্তে ছুটছে মানুষ। সুপেয় পানির সংকট এ অঞ্চলের মানুষদের নিত্যদিনের সমস্যা।
শ্যামনগর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোস্তফিজুর রহমানের তথ্য মতে উপজেলায় সরকারি খাওয়ার পুকুর আছে ২২টি, পানি ফিল্টার আছে ৬৫৬টি অকেজো রয়েছে ১৮৫টি, গভীর নলকূপ ২ হাজার অগভীর নলকূপ আছে ৫ শত আরও মেশিন রয়েছে ৫ টি, সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে পানির ট্যাং বিতরণ করেছে ৩ হাজার।
কৈখালী,পদ্মপুকুর,বুড়িগোয়ালীনি,আটুলিয়া,গাবুরা মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষ জানান, গত কয়েক বছর ধরে এ সমস্যা চলে এলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। ভয়াবহ রুপ নিছে। এটি স্থায়ী সমাধানের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। এলাকার বেশিরভাগ খাল ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় কোথাও গোসল এবং খাবারের পানি মিলছে না। লোকজনকে আর্সোনিকযুক্ত নলকূপ, নোংড়া পুকুরের পানি পান করছে। এসব পানি পান করে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ভুগছে।
 উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচন্ড গরমে পানি বাহিত রোগ ডায়রিয়া, শাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কৈখালী গ্রামে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে  হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া পল্লী চিকিৎসকদের কাছ থেকে ও চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা, কৈখালী গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ডাঃ রুহুল আমীন বলেন, একদিকে অতি তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায়। মাটির তলদেশের ও নলকূপের পানি নোনা। অ- পরিকল্পিত ভাবে খাওয়ার পানির ফিল্টার। পুকুরগুলো সংস্কার করার অভাবে  পানি-বাহিত ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধ বয়সের মানুষ।
গাবুরা গ্রামের হুদা মালী, শাহাদাত হোসেন সহ অনেকে জানান, এই এলাকার পানি লবণাক্ত। সরকারি অনেক জায়গা থাকলে ও সরকারি কোনো পুকুর বা জলাধর না থাকায়। আমারা প্রতিবছর দুই থেকে তিন মাস বিশুদ্ধ খাবার পানির কষ্টে জীবন কাঁটাতে হয়। বিশুদ্ধ সুপেয় পানি সময় মত পাওয়া যায়না।
শ্যামনগর সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ গাজী তরিকুল ইসলাম বলেন, গরম বাড়ার সাথে সাথে পানি বাহিত রোগের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেশিরভাগ শিশু ও বৃদ্ধাদের ডায়রিয়া,আমশা,শ্বাস কষ্ট, সহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম বলেন,পানির সমস্যা সমাধানে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। ইউনিয়নে পানির ট্যাং বিতরণ সহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে আরও মেশিন তৈরি করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

rt5dyrtyrtyt

শ্যামনগর উপকূলে তাপদাহে সুপেয় পানির তীব্র সংকটঃ দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন রোগ

Update Time : ০১:৪৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪
বৈশাখের এই তীব্র গরমে তো হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমা অঞ্চল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মানুষ প্রচন্ড তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। সর্বত্র প্রচন্ড খরতাপ  গরমে জনজীবনসহ প্রাণীকুল অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। বৈশাখের এই গরমে উপকূলীয় মানুষের বির্যস্থ হয়ে পড়েছে। ঘরে বৈদ্যুতিক ফ্যানের বাতাসেও আগুনের হাওয়া বইছে। অপরদিকে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। তাই হাসপাতাল গুলোতে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেশকিছু দিন ধরে তাপদাহে পুড়ছে সারাদেশ।
দুপুরে রোদে ঘরের বাইরে চলাচলকারীদের শরীরও মুখমন্ডল জ্বলতে থাকে।  অনেকে এই তীব্র খরতাপ ও ভ্যাপসা গরম থেকে একটু স্বস্থি পেতে দুই থেকে তিন বার গোসল করছেন মানুষ। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে শ্যামনগর সদর হাসপাতলে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, পানির অপর নাম জীবন হলেও। পানি এখন আমাদের বিপদ ডেকে আনছে। চারদিকে পানি থাকলেও  সুপেয় পানির জন্য হাহাকার করতে হচ্ছে। পানির জন্য কলসি হাতে দূর-দূরান্তে ছুটছে মানুষ। সুপেয় পানির সংকট এ অঞ্চলের মানুষদের নিত্যদিনের সমস্যা।
শ্যামনগর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোস্তফিজুর রহমানের তথ্য মতে উপজেলায় সরকারি খাওয়ার পুকুর আছে ২২টি, পানি ফিল্টার আছে ৬৫৬টি অকেজো রয়েছে ১৮৫টি, গভীর নলকূপ ২ হাজার অগভীর নলকূপ আছে ৫ শত আরও মেশিন রয়েছে ৫ টি, সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে পানির ট্যাং বিতরণ করেছে ৩ হাজার।
কৈখালী,পদ্মপুকুর,বুড়িগোয়ালীনি,আটুলিয়া,গাবুরা মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষ জানান, গত কয়েক বছর ধরে এ সমস্যা চলে এলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। ভয়াবহ রুপ নিছে। এটি স্থায়ী সমাধানের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। এলাকার বেশিরভাগ খাল ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় কোথাও গোসল এবং খাবারের পানি মিলছে না। লোকজনকে আর্সোনিকযুক্ত নলকূপ, নোংড়া পুকুরের পানি পান করছে। এসব পানি পান করে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ভুগছে।
 উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচন্ড গরমে পানি বাহিত রোগ ডায়রিয়া, শাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কৈখালী গ্রামে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে  হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া পল্লী চিকিৎসকদের কাছ থেকে ও চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা, কৈখালী গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ডাঃ রুহুল আমীন বলেন, একদিকে অতি তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায়। মাটির তলদেশের ও নলকূপের পানি নোনা। অ- পরিকল্পিত ভাবে খাওয়ার পানির ফিল্টার। পুকুরগুলো সংস্কার করার অভাবে  পানি-বাহিত ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধ বয়সের মানুষ।
গাবুরা গ্রামের হুদা মালী, শাহাদাত হোসেন সহ অনেকে জানান, এই এলাকার পানি লবণাক্ত। সরকারি অনেক জায়গা থাকলে ও সরকারি কোনো পুকুর বা জলাধর না থাকায়। আমারা প্রতিবছর দুই থেকে তিন মাস বিশুদ্ধ খাবার পানির কষ্টে জীবন কাঁটাতে হয়। বিশুদ্ধ সুপেয় পানি সময় মত পাওয়া যায়না।
শ্যামনগর সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ গাজী তরিকুল ইসলাম বলেন, গরম বাড়ার সাথে সাথে পানি বাহিত রোগের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেশিরভাগ শিশু ও বৃদ্ধাদের ডায়রিয়া,আমশা,শ্বাস কষ্ট, সহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম বলেন,পানির সমস্যা সমাধানে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। ইউনিয়নে পানির ট্যাং বিতরণ সহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে আরও মেশিন তৈরি করা হচ্ছে।