Dhaka ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি সংক্রান্ত জেরে ৩জনকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ৪৭৫ Time View

আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মা, দুই ছেলে ও এক ছেলের স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে মধুপুর পৌরসভা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুন্ডুরা গ্রামে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
নির্যাতনের শিকাররা হলেন- উক্ত গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী শাফিয়া বেগম (৫৫), বড় ছেলে আলমগীর হোসেন, ছোট ছেলে জুব্বার আলী ও আলমগীরের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলমগীরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও শাশুড়ি শাফিয়া এবং ছেলে বউ জ্যোৎস্নাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আলমগীর ও জুব্বারের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত আবু শেখের ছেলে কালু মিয়া শেখ ও তার ভাইদের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। দু’পক্ষের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমাও হয়েছে।
দীর্ঘ ২৩ বছর বাটোয়ারা মামলা চলার পর চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি আদালত আলমগীর ও জুব্বারের পক্ষে রায় দেন। রায় পেয়ে জমির খাজনা খারিজ করেন তারা।
মাঠ ও প্রিন্ট পর্চা তাদের নামেই রয়েছে। প্রতিপক্ষ কালু মিয়া শেখ, ভাই আজগর ও সামাদকে নিয়ে গত কয়েক মাস আগে উক্ত জমির মালিক দাবি করে আদালতে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে আবেদন করলে আদালত স্থানীয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদন্ত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। আলমগীর, জুব্বাররা কাগজপত্রের ভিত্তিতে ১৪৪ ধারার বিপরীতে জজ কোর্টে আপিল করেছেন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে দুই পরিবারে মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে কালু মিয়া গং ৬০ শতক জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় আলমগীর ও জুব্বার বাধা দিলে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রড ও লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে প্রতিপক্ষরা। সে সময় তাদের মা শাফিয়া এগিয়ে এলে তাকেও গাছে বেঁধে ফেলা হয়। শাশুড়িকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন ছেলের বউ জ্যোৎস্না বেগম। তখন ওই ছেলের বউকেও বাদ দেয়নি প্রতিপক্ষরা। তাকেও হাত-পা বেঁধে বসিয়ে রাখা হয় ওই জমিতে। এ অবস্থায় পুলিশকে ফোন দিয়ে জানানো হলেও পুলিশ না আসায় স্থানীয় এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। পরে মধুপুর থানা পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে ধাক্কা-ধাক্কি হয়েছে। তবে গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ ধরনের কোনো ঘটনা হয়ে থাকলে এবং কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

rt5dyrtyrtyt

টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি সংক্রান্ত জেরে ৩জনকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ।

Update Time : ০৫:১২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মা, দুই ছেলে ও এক ছেলের স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে মধুপুর পৌরসভা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুন্ডুরা গ্রামে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
নির্যাতনের শিকাররা হলেন- উক্ত গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী শাফিয়া বেগম (৫৫), বড় ছেলে আলমগীর হোসেন, ছোট ছেলে জুব্বার আলী ও আলমগীরের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলমগীরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও শাশুড়ি শাফিয়া এবং ছেলে বউ জ্যোৎস্নাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আলমগীর ও জুব্বারের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত আবু শেখের ছেলে কালু মিয়া শেখ ও তার ভাইদের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। দু’পক্ষের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমাও হয়েছে।
দীর্ঘ ২৩ বছর বাটোয়ারা মামলা চলার পর চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি আদালত আলমগীর ও জুব্বারের পক্ষে রায় দেন। রায় পেয়ে জমির খাজনা খারিজ করেন তারা।
মাঠ ও প্রিন্ট পর্চা তাদের নামেই রয়েছে। প্রতিপক্ষ কালু মিয়া শেখ, ভাই আজগর ও সামাদকে নিয়ে গত কয়েক মাস আগে উক্ত জমির মালিক দাবি করে আদালতে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে আবেদন করলে আদালত স্থানীয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদন্ত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। আলমগীর, জুব্বাররা কাগজপত্রের ভিত্তিতে ১৪৪ ধারার বিপরীতে জজ কোর্টে আপিল করেছেন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে দুই পরিবারে মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে কালু মিয়া গং ৬০ শতক জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় আলমগীর ও জুব্বার বাধা দিলে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রড ও লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে প্রতিপক্ষরা। সে সময় তাদের মা শাফিয়া এগিয়ে এলে তাকেও গাছে বেঁধে ফেলা হয়। শাশুড়িকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন ছেলের বউ জ্যোৎস্না বেগম। তখন ওই ছেলের বউকেও বাদ দেয়নি প্রতিপক্ষরা। তাকেও হাত-পা বেঁধে বসিয়ে রাখা হয় ওই জমিতে। এ অবস্থায় পুলিশকে ফোন দিয়ে জানানো হলেও পুলিশ না আসায় স্থানীয় এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। পরে মধুপুর থানা পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে ধাক্কা-ধাক্কি হয়েছে। তবে গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ ধরনের কোনো ঘটনা হয়ে থাকলে এবং কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।