Dhaka ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু উত্তোলন, হু ম কির মুখে সীমান্ত বেড়িবাঁধ

দেবহাটায় সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে রুপসী ম্যানগ্রোভসহ সীমান্ত বেড়িবাঁধ। নদীর বালু কাটার ফলে প্রতিবছরই আমরা আমাদের ভূখন্ড হারাচ্ছি, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিঘা বিঘা জমি। এছাড়া বেড়িবাঁধ সংস্কারেও সরকারকে গুনতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

 

এসব বিষয়ে স্থানীয় সচেতনমহল উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে জেলা প্রশাসকের দপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা সরেজমিনে তদন্ত করে কোন বালু মহল ইজারা না দেয়ার পক্ষে মতামত দেন। যার কারনে চলতি বছরে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে কোন বালু মহল ইজারা না দেয়া হলেও এখনো পর্যন্ত বন্ধ হয়নি অবৈধভাবে বালু কাটা। যার কারনে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের পদচারনায় প্রাণবন্ত ঐতিহ্যবাহী রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ ও সীমান্ত বেড়িবাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। রুপসী ম্যানগ্রোভের গাঁ ঘেষে সম্পূর্ন অবৈধভাবে প্রতিনিয়ত রাতের আধারে বালু উত্তোলন করছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এতে করে নদী ভাঙনসহ হুমকির মুখে পড়ছে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রূপসী ম্যানগ্রোভ। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দূর্যোগসহ আবারো ইছামতি নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে পর্যটন কেন্দ্রটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকাও করছেন উপজেলাবাসী।

 

শুক্রবার দুপুরে দেবহাটা বিজিবি ক্যাম্পের পাশে ও বসন্তপুর শ্লুইচ গেটের পাশে গিয়ে দেখা যায় ট্রলি ও ভ্যানে করে বালু বিক্রয় করা হচ্ছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় আগের মজুত করা বালু বিক্রয় করা হচ্ছে।

 

প্রশ্ন হলো, জেলা প্রশাসন থেকে চলতি বছর কোন বালুমহল ইজারা দেয়া হয়নি। এই গত ৮/৯ মাসে কি আগের মজুত বালু শেষ হলোনা।

 

এবিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন জানান, একটি চক্র রাত ২টার পরে নৌকা নিয়ে রুপসী ম্যানগ্রোভের পাশের বালুমহল থেকে বালু কেটে এখানে মজুত করে সেগুলো বিক্রি করছে। ভোররাতে ও সকালে এই বালু বিক্রি করা হয় যাতে স্থানীয় প্রশাসন ধরতে না পারে।

 

এসময় বালু উত্তোলনকারীদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, বসন্তপুর এলাকার এক সাবেক ইউপি সদস্যের ইন্ধনে খ আদ্যক্ষর ও র আদ্যক্ষরে ২ ব্যক্তিসহ কয়েকজন সিন্ডিকেট করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করছেন। এখন যেহেতু কাজের সময় সেইজন্য ট্রলি প্রতি ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত দামে তারা বিক্রি করছেন।

 

দেবহাটার ঐতিহ্যবাহী রূপসী ম্যানগ্রোভ ইতিমধ্যেই জেলার গন্ডি পেরিয়ে পরিচিতি লাভ করেছে বাইরের জেলা গুলোতেও। মাত্র কয়েক বছরেই গড়ে ওঠা বনটি নদী ভাঙন রোধ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার সাথে সাথে মানুষের বিনোদনের খোরাক যুগিয়ে আসছে। বাংলাদশে-ভারতের আর্ন্তজাতিক সীমানা নির্ধারনী ইছামতি নদীর ভাঙন রোধকল্পে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রুপসী ম্যানগ্রোভ ও বেড়িবাঁধের তীর ঘেষে লবনাক্ততা সহনশীল বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের কয়েক হাজার চারা রোপনের মাধ্যমে ৩১.৪৬ একর জমিতে সুন্দরবনের আদলে সৃষ্টি করা হয় রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র।

 

এভাবে অবৈধভাবে চলমান বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধসহ হুমকির মুখ থেকে রুপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভকে রক্ষায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষপে গ্রহনের জন্য সচেতনমহল দাবী জানিয়েছেন।

 

এবিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সীমান্ত রক্ষায় কোন বালুমহল ইজারা দেয়া হয়নি। ইতিমধ্যে অবৈধভাবে বালু কাটা বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার মেশিন, ট্রলি ও লোকজনকে আটক করা ও সাজা প্রদান করা হয়েছে। এধরনের অবৈধ কাজ যদি কেউ করে থাকে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে ইউএনও জানান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

rt5dyrtyrtyt

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু উত্তোলন, হু ম কির মুখে সীমান্ত বেড়িবাঁধ

Update Time : ১২:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

দেবহাটায় সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে রুপসী ম্যানগ্রোভসহ সীমান্ত বেড়িবাঁধ। নদীর বালু কাটার ফলে প্রতিবছরই আমরা আমাদের ভূখন্ড হারাচ্ছি, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিঘা বিঘা জমি। এছাড়া বেড়িবাঁধ সংস্কারেও সরকারকে গুনতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

 

এসব বিষয়ে স্থানীয় সচেতনমহল উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে জেলা প্রশাসকের দপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা সরেজমিনে তদন্ত করে কোন বালু মহল ইজারা না দেয়ার পক্ষে মতামত দেন। যার কারনে চলতি বছরে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে কোন বালু মহল ইজারা না দেয়া হলেও এখনো পর্যন্ত বন্ধ হয়নি অবৈধভাবে বালু কাটা। যার কারনে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের পদচারনায় প্রাণবন্ত ঐতিহ্যবাহী রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ ও সীমান্ত বেড়িবাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। রুপসী ম্যানগ্রোভের গাঁ ঘেষে সম্পূর্ন অবৈধভাবে প্রতিনিয়ত রাতের আধারে বালু উত্তোলন করছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এতে করে নদী ভাঙনসহ হুমকির মুখে পড়ছে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রূপসী ম্যানগ্রোভ। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দূর্যোগসহ আবারো ইছামতি নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে পর্যটন কেন্দ্রটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকাও করছেন উপজেলাবাসী।

 

শুক্রবার দুপুরে দেবহাটা বিজিবি ক্যাম্পের পাশে ও বসন্তপুর শ্লুইচ গেটের পাশে গিয়ে দেখা যায় ট্রলি ও ভ্যানে করে বালু বিক্রয় করা হচ্ছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় আগের মজুত করা বালু বিক্রয় করা হচ্ছে।

 

প্রশ্ন হলো, জেলা প্রশাসন থেকে চলতি বছর কোন বালুমহল ইজারা দেয়া হয়নি। এই গত ৮/৯ মাসে কি আগের মজুত বালু শেষ হলোনা।

 

এবিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন জানান, একটি চক্র রাত ২টার পরে নৌকা নিয়ে রুপসী ম্যানগ্রোভের পাশের বালুমহল থেকে বালু কেটে এখানে মজুত করে সেগুলো বিক্রি করছে। ভোররাতে ও সকালে এই বালু বিক্রি করা হয় যাতে স্থানীয় প্রশাসন ধরতে না পারে।

 

এসময় বালু উত্তোলনকারীদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, বসন্তপুর এলাকার এক সাবেক ইউপি সদস্যের ইন্ধনে খ আদ্যক্ষর ও র আদ্যক্ষরে ২ ব্যক্তিসহ কয়েকজন সিন্ডিকেট করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করছেন। এখন যেহেতু কাজের সময় সেইজন্য ট্রলি প্রতি ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত দামে তারা বিক্রি করছেন।

 

দেবহাটার ঐতিহ্যবাহী রূপসী ম্যানগ্রোভ ইতিমধ্যেই জেলার গন্ডি পেরিয়ে পরিচিতি লাভ করেছে বাইরের জেলা গুলোতেও। মাত্র কয়েক বছরেই গড়ে ওঠা বনটি নদী ভাঙন রোধ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার সাথে সাথে মানুষের বিনোদনের খোরাক যুগিয়ে আসছে। বাংলাদশে-ভারতের আর্ন্তজাতিক সীমানা নির্ধারনী ইছামতি নদীর ভাঙন রোধকল্পে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রুপসী ম্যানগ্রোভ ও বেড়িবাঁধের তীর ঘেষে লবনাক্ততা সহনশীল বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের কয়েক হাজার চারা রোপনের মাধ্যমে ৩১.৪৬ একর জমিতে সুন্দরবনের আদলে সৃষ্টি করা হয় রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র।

 

এভাবে অবৈধভাবে চলমান বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধসহ হুমকির মুখ থেকে রুপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভকে রক্ষায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষপে গ্রহনের জন্য সচেতনমহল দাবী জানিয়েছেন।

 

এবিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সীমান্ত রক্ষায় কোন বালুমহল ইজারা দেয়া হয়নি। ইতিমধ্যে অবৈধভাবে বালু কাটা বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার মেশিন, ট্রলি ও লোকজনকে আটক করা ও সাজা প্রদান করা হয়েছে। এধরনের অবৈধ কাজ যদি কেউ করে থাকে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে ইউএনও জানান।