Dhaka ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত চুয়েট উপাচার্য, ক্যাম্পাস ছাড়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে উত্তাল

  • Md Bablu
  • Update Time : ০৩:০০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৬ Time View

প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মুক্ত হলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। তবে ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশের তোপের মুখে পড়েন তিনি, এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়।

উপাচার্য ও অন্যান্য অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তাদের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি পান উপাচার্যসহ অন্য ব্যক্তিরা।

আন্দোলন ও অবরুদ্ধের নেপথ্য কাহিনী

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে, যখন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। এই চলমান আন্দোলনের মাঝেই বর্তমান উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশকে কেন্দ্র করে তীব্র বাধার মুখে পড়েন তিনি।

শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবন ত্যাগ করার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি ভবন না ছাড়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মূল দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এর ফলে উপাচার্যসহ সেখানে আটকা পড়েন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। এই আদেশের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হয়।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট নিরসনে বিভিন্ন মহল থেকে তাগিদ দেওয়া হলেও অচলাবস্থা কাটছিল না। উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হলেও, এই অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয়

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রকাশ পেল অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ

দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত চুয়েট উপাচার্য, ক্যাম্পাস ছাড়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে উত্তাল

rt5dyrtyrtyt
error: Content is protected !!

দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত চুয়েট উপাচার্য, ক্যাম্পাস ছাড়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে উত্তাল

Update Time : ০৩:০০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মুক্ত হলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। তবে ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশের তোপের মুখে পড়েন তিনি, এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়।

উপাচার্য ও অন্যান্য অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তাদের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি পান উপাচার্যসহ অন্য ব্যক্তিরা।

আন্দোলন ও অবরুদ্ধের নেপথ্য কাহিনী

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে, যখন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। এই চলমান আন্দোলনের মাঝেই বর্তমান উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশকে কেন্দ্র করে তীব্র বাধার মুখে পড়েন তিনি।

শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবন ত্যাগ করার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি ভবন না ছাড়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মূল দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এর ফলে উপাচার্যসহ সেখানে আটকা পড়েন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। এই আদেশের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হয়।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট নিরসনে বিভিন্ন মহল থেকে তাগিদ দেওয়া হলেও অচলাবস্থা কাটছিল না। উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হলেও, এই অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।