Dhaka ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মণিরামপুরে যক্ষ্মা প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৬ Time View

‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই’—সমাজের প্রচলিত এই ভুল ধারণাকে ভেঙে দিয়ে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসার বার্তা দিতে যশোরে অনুষ্ঠিত হলো এক সচেতনতামূলক সভা। মণিরামপুরে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মাঝে যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেয় সামাজিক সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মণিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই আলোচনা সভা আয়োজিত হয়। সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, যক্ষ্মার কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তা লুকিয়ে না রেখে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং সমাজের নানাবিধ কুসংস্কার দূর করা অত্যন্ত জরুরি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্র্যাক হেলথ সেন্টারের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মণিরামপুর এলাকায় প্রতি মাসে প্রায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষদের সচেতন করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা জরুরি বলে জানান শুভসংঘের সদস্যরা।

যক্ষ্মার প্রধান লক্ষণ ও করণীয়

আলোচনায় বক্তারা যক্ষ্মার কয়েকটি মুখ্য উপสรรকের কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে:

  • টানা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে কাশি থাকা।

  • কাশির সাথে কফ কিংবা রক্ত আসা।

  • অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা এবং দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।

  • সন্ধ্যার দিকে জ্বর আসা এবং রাতে শরীর ঘাম হওয়া।

তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই নিশ্চিতভাবে যক্ষ্মা বলা যাবে না; সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই কেবল রোগ শনাক্ত করা সম্ভব।

সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সঠিক চিকিৎসা

ফুসফুসের যক্ষ্মা মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়। তাই আক্রান্তদের মাস্ক ব্যবহার, কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং ঘর আলো-বাতাসপূর্ণ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, ডটস (DOTS) পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শমতে ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করতে হবে। মাঝপথে ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দিলে রোগটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে এবং ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মার (MDR-TB) ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

সভায় অতিথিদের বক্তব্য

বসুন্ধরা শুভসংঘ মণিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকাশের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার।

শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন সিনিয়র শিক্ষক জি এম মমিনুর রহমান, প্রণয় কুমার বিশ্বাস, কার্তিক চন্দ্র হালদার এবং স্বপ্নীল মল্লিক রিজু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, আখতারুজ্জামান, মিলন মণ্ডল, নাজমা খাতুন, ফাতিমা খাতুন, শাহরিয়ার রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. ইয়াছিন আলী। শুভসংঘের পক্ষে ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরকার, সদস্য কাইয়ুম হাসান শিমুল এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতারসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীবৃন্দ।

প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “নিয়মিত ও সঠিক চিকিৎসায় যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। এই সত্য বার্তাটি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর হয়।”

শুভসংঘের সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমান জানান, তারুণ্যের শক্তিকে সামাজিক কাজে লাগাতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পাশাপাশি বসুন্ধরা শুভসংঘের সহসভাপতি ও চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে যক্ষ্মা এখন আর মরণব্যাধি নয়। সময়মতো পরীক্ষা করে পুরো মেয়াদে ওষুধ সেবন করলে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

যক্ষ্মা সম্পর্কিত ভয় ও সামাজিক সামাজিক ভ্রান্তি দূর করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে এই সচেতনতামূলক সভার সমাপ্তি ঘটে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয়

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রকাশ পেল অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ

দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত চুয়েট উপাচার্য, ক্যাম্পাস ছাড়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে উত্তাল

rt5dyrtyrtyt
error: Content is protected !!

মণিরামপুরে যক্ষ্মা প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

Update Time : ০৯:৩৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই’—সমাজের প্রচলিত এই ভুল ধারণাকে ভেঙে দিয়ে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসার বার্তা দিতে যশোরে অনুষ্ঠিত হলো এক সচেতনতামূলক সভা। মণিরামপুরে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মাঝে যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেয় সামাজিক সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মণিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই আলোচনা সভা আয়োজিত হয়। সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, যক্ষ্মার কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তা লুকিয়ে না রেখে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং সমাজের নানাবিধ কুসংস্কার দূর করা অত্যন্ত জরুরি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্র্যাক হেলথ সেন্টারের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মণিরামপুর এলাকায় প্রতি মাসে প্রায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষদের সচেতন করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা জরুরি বলে জানান শুভসংঘের সদস্যরা।

যক্ষ্মার প্রধান লক্ষণ ও করণীয়

আলোচনায় বক্তারা যক্ষ্মার কয়েকটি মুখ্য উপสรรকের কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে:

  • টানা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে কাশি থাকা।

  • কাশির সাথে কফ কিংবা রক্ত আসা।

  • অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা এবং দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।

  • সন্ধ্যার দিকে জ্বর আসা এবং রাতে শরীর ঘাম হওয়া।

তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই নিশ্চিতভাবে যক্ষ্মা বলা যাবে না; সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই কেবল রোগ শনাক্ত করা সম্ভব।

সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সঠিক চিকিৎসা

ফুসফুসের যক্ষ্মা মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়। তাই আক্রান্তদের মাস্ক ব্যবহার, কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং ঘর আলো-বাতাসপূর্ণ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, ডটস (DOTS) পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শমতে ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করতে হবে। মাঝপথে ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দিলে রোগটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে এবং ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মার (MDR-TB) ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

সভায় অতিথিদের বক্তব্য

বসুন্ধরা শুভসংঘ মণিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকাশের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার।

শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন সিনিয়র শিক্ষক জি এম মমিনুর রহমান, প্রণয় কুমার বিশ্বাস, কার্তিক চন্দ্র হালদার এবং স্বপ্নীল মল্লিক রিজু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, আখতারুজ্জামান, মিলন মণ্ডল, নাজমা খাতুন, ফাতিমা খাতুন, শাহরিয়ার রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. ইয়াছিন আলী। শুভসংঘের পক্ষে ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরকার, সদস্য কাইয়ুম হাসান শিমুল এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতারসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীবৃন্দ।

প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “নিয়মিত ও সঠিক চিকিৎসায় যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। এই সত্য বার্তাটি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর হয়।”

শুভসংঘের সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমান জানান, তারুণ্যের শক্তিকে সামাজিক কাজে লাগাতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পাশাপাশি বসুন্ধরা শুভসংঘের সহসভাপতি ও চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে যক্ষ্মা এখন আর মরণব্যাধি নয়। সময়মতো পরীক্ষা করে পুরো মেয়াদে ওষুধ সেবন করলে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

যক্ষ্মা সম্পর্কিত ভয় ও সামাজিক সামাজিক ভ্রান্তি দূর করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে এই সচেতনতামূলক সভার সমাপ্তি ঘটে।